Skip to content Skip to sidebar Skip to footer

আর্মেনিয়ার বাংলাদেশ

লিখেছেন: সাইফুল্লাহ সাদেক


গ্রীষ্মরে ভরদুপুরে মস্কোভিয়ান স্ট্রিটের এক পাশে এসে দাঁড়িয়িছি। সবুজ বৃক্ষের ছায়ায় দিখনা হাওয়ার মনোরম পরিবেশে দারুণ লাগছ। স্নিগ্ধ রোদও আছে । কন্তিু সূর্যের উত্তাপটা লাগছে না তেমন। ফুটপাত ঘেঁষে বাহারি ফুলরে বাগান। নানা রঙয়ের, নানা জাতের ফুলে সুশোভিত হয়ে আছে মস্কোভিয়ান স্ট্রিট। ফুলের ঘ্রাণে জুড়িয়ে যাচ্ছে প্রাণ। এমনই ফুলের ঘ্রাণ ভরা মন নিয়ে অপেক্ষা করছি মাশরুতকাস (মিনিবাস) এর জন্য। ৭৫ এবং ৯৯ নাম্বার চাইনিজ মিনিবাস যাতায়াত করে এই পথে। আনুমানিক ৭ মিনিট মিনিট পরপর বাসগুলো মস্কোভিয়ান মস্কোভয়িান স্ট্রিটের মোড়ে এসে দাঁড়ায়।

খুব বেশী অপক্ষো করতে হলো না। কয়কে মিনিটের মধ্যে এসে দাঁড়াল মিনিবাস। ধীরে সুস্থে উঠে বসলাম।মস্কোভিয়ান স্ট্রিট তথা ইয়রেভোনরে কন্ট্রেন জলো থেকে শহরতলির দিকে ছুটে চলল বাসটি। বিমানবন্দরে নেমেই শুনেছিলাম বাংলাদেশের নাম। সেই থেকে এক অন্যরকম উত্তেজনা কাজ করছে! কেমন হবে বিদেশ বিভূঁইয়ের ‘বাংলাদেশ’!

এমন প্রশ্নে কল্পনায় ডুব দয়িছে।ি উদ্দীপ্ত হয়ছে।ি আনন্দে উদ্বলেতি হয়ছে।ি অবশষেে দমবন্ধ করা কৌতূহল ভতেরে চপেে আজ ছুটে চলছেি কাঙ্ক্ষতি বাংলাদশেরে পথ।ে
সমুদ্রপৃষ্ঠ থকেে প্রায় সাড়ে চার হাজার ফুট উঁচুতে র্আমনেয়িার রাজধানী ইয়রেভোন। এই শহর থকেে ধীরে ধীরে নচিরে দকিে মনিবিাস এগয়িে চলছ।ে দ্রুতগামী মনিবিাস। চলতি পথরে স্টপজেগুলোতে থমেে প্যাসঞ্জোর নামানো হচ্ছ।ে আবার নতুন করে উঠছনে অনকে যাত্রী। যারা উঠছনে, নামছনে কংিবা পাশে এসে বসছনে তাদরে সবাইকে খুব আপন মনে হচ্ছ।ে মনে হচ্ছে স্বদশেি ভাই, বোন কংিবা বন্ধুজন। ভীষণ ইচ্ছে থাকা সত্ত্বওে কথা বলতে পারছি না। অধকিাংশ লোকজনই তাদরে নজিস্ব ভাষাটরি বাইরে অন্য ভাষায় অভ্যস্ত নন। কউে কউে ইংরজেি বুঝলওে অধকিাংশ মানুষ বুঝতে পারনে না। কথা বলতে পারছি না বলে চষ্টো করছি রাস্তার দুধাররে প্রাকৃতকি সৌর্ন্দয উপভোগ করার। প্রকৃতরি সঙ্গে কথা বলার চষ্টো করছ।ি পৃথবিীর সমস্ত অব্যক্ত ভাষা বোঝার ক্ষমতা আছে প্রকৃতরি। স্বচ্ছ জানালায় চোখ রখেে নর্মিষে তাকয়িে আছি বাইররে দকি।ে বভিন্নি ডজিাইনরে সাইনর্বোড, দয়োললখিন, পোস্টার চোখে পড়ছ।ে কন্তিু বুঝতে পারছি না এক র্বণও। ফলে কোন জায়গায় বাস থামছে তাও বুঝতে পারছি না । তবে এটি জানি য,ে আমাদরে বাসটি বাংলাদশেে গয়িে যাত্রা শষে করব।ে


ক্রমশ ঢালুর দকিে নামছি আমরা। নন্দতি, শল্পৈকি নানা দালান-কোঠা, ঐতহ্যিবাহী ভার্স্কয, র্চাচ, বড় বড়, উঁচু উঁচু মনুমন্টে, রাস্তার দুধারে সবুজ বৃক্ষরে হাতছানি দখেতে দখেতে আমাদরে মনিবিাস ঢুকে পড়ে শহরতলতি।ে কংক্রটিরে ভবন আর ফুটপাতে নানা রকমরে দোকানে ভরা সড়ক। দুই পাশে সারি সারি গাছ। থকেে থকেে সবুজ মাঠ। খানকি সামনে গয়িে বশিাল একটি দঘিরি মতো দখেতে পলোম। কছিুদূর গয়িে কয়কেটি টনিরে ঘরও দখো গলে। পথ চলছি আর ইতউিতি তাকয়িে ‘বাংলাদশে’ নামটি খুঁজে ফরিছ।ি কন্তিু দ্রুতগামী বাসরে ফাঁক দয়িে তা দখো কঠনি। আবার দখেলওে ভাষাগত সমস্যার কারণে বোঝার উপায় নইে। প্রায় ৩০ মনিটি চলার পর আমাদরে মনিবিাস পৌঁছে গলে বাংলাদশে।ে আমরা দুই জন দুশ ড্রাম ভাড়া মটিয়িে পা রাখলাম বাংলাদশেরে মাটতি।ে এর সঙ্গে সঙ্গে একটা কী রকম অদ্ভুত শহিরণ! কবেলই মনে হচ্ছ,ে এ যনে বদিশে বভিূঁইয়রে বাংলাদশে নয়, যনে আমারই স্বদশে- বাংলাদশে! দারুণ সাজানো, সুন্দর এই বাংলাদশে। রাস্তায় বলির্বোডে ইংরজেি বানানরে ‘বাংলাদশে’ নাম খুঁজে পাচ্ছি না যদওি। র্আমনেয়িান ভাষায় সবকছিু লখো। নশ্চিতি হলাম, কোনো লখিতি ডকুমন্টেে ‘বাংলাদশে’ শব্দটি পাওয়া যাবে না। অথচ সবাই মুখে বলছনে ‘বাংলাদশে’! মনিবিাসে ওঠার সময় চালক ডাকছনে, ‘বাংলাদশে’। বাস গন্তব্যে পৌঁছার পর আবারও বলছনে, বাংলাদশেে এসছে,ি নমেে পড়ুন। তাহলে কোথাও ‘বাংলাদশে’ শব্দটি দখেতে পাচ্ছি না কনে! নতুন একটি দশে আবষ্কিাররে আনন্দরে মাঝে একটি বশিালকায় প্রশ্নবোধক চহ্নি নয়িে ঘুরে বড়োতে লাগলাম!


বাংলাদশেরে প্রধান এভনিউি ধরে হাঁটতে হাঁটতে বখ্যিাত জনোরলে আন্দ্রানকি ওঝানয়িানরে ভার্স্কয ঘরিে সাজানো র্পাকরে ভতেরে প্রবশে করলাম। অপার বষ্মিয়ে তাকয়িে আছি র্মূতরি দকি।ে কে এই আন্দ্রানকি! কৌতূহলী হয়ে খুঁজতে গয়িে পলোম দারুণ একজন মুক্তনিায়কক।ে জনোরলে ও রাজনীতকি আন্দ্রানয়িাকরে জীবনকাল-১৮৬৫-১৯২৭। তনিি ছলিনে র্আমনেয়িান জাতীয় মুক্তি আন্দোলনরে অন্যতম নায়ক ও র্সবাধকি পরচিতি নতো। ঊনশি শতকরে শষেভাগ থকেে শুরু করে বশি শতকরে প্রথম দকিে র্আমনেয়িার স্বাধীনতার জন্য সামরকি প্রচষ্টোকারী নতোদরে মধ্যে তনিি ছলিনে তুমুল জনপ্রয়ি। দশেরে স্বাধীনতার জন্য তার অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতইে ভার্স্কযটি স্থাপন করা হয়ছে।ে এই ভার্স্কযরে সঙ্গে কয়কেটি ছবি ফ্রমেবন্দি করার ইচ্ছটো দমাতে পারলাম না। মীর লোকমান ভডিওির জন্য দাঁড়য়িে গলেনে। আমি ক্যামরো ধরলাম। তনিি বলতে শুরু করলনে। মীর সাহবে এমনতিে স্বাভাবকিভাবইে কথা বলনে। কন্তিু ক্যামরো সামনে এলে শুরু করনে রডেওি জকদিরে মতো কথার্বাতা। আমি অবশ্য তাও ঠকিমতো পারি না। কথা বঁেধে যায়। গুছয়িে লখিতে না পারার মতো গুছয়িে বলতে না পারার সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ আম।ি রডেওি জকদিরে ভঙ্গমিায় র্আমনেয়িার বাংলাদশে আবষ্কিাররে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে থাকলনে লোকমান। তার কথা শষে হলে ক্যামরোটি তনিি আমার দকিে ঘুরয়িে ধরলনে। আমি ইতস্ততভাবে বলতে শুরু করলাম। বমিানবন্দররে অভজ্ঞিতা থকেে শুরু করে অ্যানা গলেস্টোইনরে সঙ্গে সাক্ষাত এবং র্আমনেয়িার বাংলাদশে দখোর অনুভূতি নয়িে দু’চার কথা বললাম। এরপর মতেে উঠলাম ছবি তোলায়। এমন সময় কয়কেজন বাচ্চা আমাদরে দখেে দৌঁড়ে এলো। ইংরজেি না জানা বাচ্চাদরে সঙ্গে মজা করইে বললাম, উই আর ফ্রম বাংলাদশে! চৎিকার করে উঠল শশিুরা – বাংলাদশে বাংলাদশে বাংলাদশে! বাচ্চাদরে মুখে বাংলাদশে শব্দটি শুনতে কী দারুণ লাগছ!ে হৃদয় ছুঁয়ে গলে। এই হৃদয়রে সঙ্গে যে বাংলাদশে মশিে গছে,ে সে নাম যারাই উচ্চারণ করুক না কনে, এই ভালো লাগা অন্যরকম।


জনোরলে আন্দ্রানকি এর ভার্স্কযরে ঠকি ওপাশে দখেতে পলোম মুক্তমঞ্চ। বভিন্নি উৎসবে এই মঞ্চে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠান। মুক্তমঞ্চরে দকিে এগয়িে গলোম। মুক্তমঞ্চে উঠে মীর লোকমান স্বভাবসুলভ ভঙ্গমিায় অভনিয় শুরু করলনে। সামনে র্দশক বলতে একজনই-আম!ি লোকমান বললনে, তনিি একদনি এখানে মূকাভনিয় করবনে। হাজার হাজার র্দশকে পরপর্িূণ থাকবে চারপাশ। লোকমানরে সঙ্গে তাল মলিয়িে মুক্তমঞ্চে উঠে পড়লাম আমওি। মাথায় বাংলাদশেরে ছোট্ট প্রতীক-গামছা। ভালোই লাগছে বঁেধে রাখত।ে এই মুক্তমঞ্চে হালকা দুষ্টুমি এবং কয়কেটি ছবি তুলে আমরা পাশরে আরকেটি ভার্স্কযরে দকিে গলোম। সটেি গ্রগেরি নারকিরে ভার্স্কয। নারকি একজন র্আমনেয়িান রহস্যময় ব্যক্ত।ি তনিি একই সঙ্গে গীতকিার, কব,ি ভক্ষিুক এবং র্ধমতত্ত্ববদি ছলিনে। অ্যাপোস্টোলকি র্চাচরে একজন সন্ন্যাসী এবং গ্রগেরি গর্জিার একজন চকিৎিসকও ছলিনে। এই মহাপণ্ডতিরে ভার্স্কযটরি কাছে গয়িে কয়কেটি ছবি তুলে নলিাম। এরপর এসে দাঁড়ালাম পাশে থাকা বাংলাদশেরে গোল চত্বর।ে এর আগে দূর থকেে তুলে নলিাম গোল চত্বররে কয়কেটি ছব।ি চত্বরটি দারুণ। মাঝখানে রোমান সভ্যতার কলুসয়িামরে মতো নর্মিতি কছিু একটা। এই চত্বররে সঙ্গে দূররে ভবনগুলোর অবস্থান ঠকি ঢাকার উত্তরার আবহ তরৈি করছে!ে গোল চত্বর থকেে র্পাশ্বর্বতী উদ্যানে প্রবশে করলাম। ওই দকিটায় একটি দোকান আছ।ে সখোনে গয়িে বসলাম খানকি সময়। হঠাৎ কোথা থকেে এক মাদকাসক্ত লোক সামনে এসে দাঁড়ালো। মুখ থকেে বোটকা র্দুগন্ধ বরেুচ্ছে ভুরভুর কর।ে এলোমলেো কীসব যনে বলছনে! আমাদরে নয়িে বশে কৌতূহলী মনে হলো তাক।ে র্আমনেয়ি ভাষা কংিবা রুশ ভাষায় কছিু একটা বলতে চাইছনে। কন্তিু আমরা বুঝতে পারছি না। এমনতিইে মাতালদরে পাশে থাকতে ভয় কর,ে বব্রিত হই।। মাতালরা যকেোনো কছিু করে ফলেতে পার।ে আর এই মাতাল তো একবোরইে অপরচিতি। আরো ভয়ংকর হতে পারে ভবেে সখোন থকেে সরে পড়লাম আমরা।


বাংলাদশেরে গোল চত্বর থকেে সামনে ডানে যতেে আইসক্রমিরে দোকান। দোকানদার কী যনে ইঙ্গতি করলনে। হয়তো আইসক্রমি কনোর জন্য ইশরায় ডাকছনে। আমাদরে সদেকিে মনোযোগ নইে। পাশরে একটি দোকান থকেে কছিু চানাচুররে প্যাকটে আর চকোলটে কনিলাম। ওই দোকান থকেইে মষ্টিি খয়েে নলিাম দুটো। বশে ক্ষুধা পয়েছেলি! মষ্টিি খয়েে ক্ষুধা নবিারণ করা গলে কছিুটা।


এবার রাফি স্ট্রটি থকেে হঁেটে আরকেটু এগয়িে চললাম। হাঁটছি গালচিার দোকানরে পাশ দয়ি।ে সুপার র্মাকটেরে দকিে এগয়িে গয়িে দখেলাম, বভিন্নি ধরনরে গৃহস্থালি জনিসিপত্র বক্রিি হয় এখান।ে ভতেরে সারি সারি পাইকারি ফলরে দোকান। হরকে রকমরে ফল সাজানো রয়ছে।ে টুকটুকে লাল আপলে দখেে জহ্বিায় পানি এসে গলে। চারশ ড্রাম দয়িে কনিে নলিাম এক কজে।ি দারুণ সুস্বাদু আপলে। সখোনে দাঁড়য়িইে খয়েে নলিাম কয়কেটা। এইসব ফল সুদূর লকে সভোন এলাকা, র্আমনেয়িান্স, ইয়যেদসি থকেে আসা। গ্রামবাসীরা এখানে বক্রিি করতে এসছেনে। র্আমনেয়িার নম্নি এলাকাগুলোতে নানা জাতরে ফলরে চাষ হয়। সসেব ফল থকেে ওয়াইন তরৈি হয় এবং সইে ওয়াইন তারা বভিন্নি দশেে রপ্তানি কর।ে র্আমনেয়িার আয়রে এটি একটি অন্যতম উৎস।


র্আমনেয়িার বাংলাদশে ভ্রমণ শষে করতে মন চাইছে না। এই এলাকার প্রমেে পড়ে গয়িছে।ি ভতের থকেে আরো ভতেরে প্রবশে করে জানার উদ্দীপনা কাজ করছ।ে সামান্য একটু হঁেটে নউির্মাকটেরে মতো একটি বাজারে প্রবশে করলাম। চাবরি রংি, হাতরে রংি, ঘড়,ি মোবাইলরে র্পাটস, মোবাইলরে কাভার, র্চাজার ইত্যাদি বক্রিি করে এমন একটি দোকানে ঢুকলাম। দোকানদার এগয়িে এলনে। আমাদরেকে পয়েে কৌতূহলী দৃষ্টি দোকানদার জুনয়িরেনাইনরে। ইংরজেতিে দুয়কেটি বাক্য বলতে পারনে এবং বুঝনে। সলেফি তোলার প্রস্তাব দলিে রাজি হলনে। তার কাছে জানার চষ্টো করলাম, এই জায়গার নাম দবাংলাদশে’ কনে? বললনে, ‘বাংলাদশে তাই বাংলাদশে। আমি একজন বাংলাদশে’ি। দারুণ তাে! নজিকেে তনিি বাংলাদশেি পরচিয় দচ্ছিনে! জুনয়িরেনাইন দখেছি আমাদরে খুব নকিটে চলে এলনে। কাঁধে হাত দয়িে ছবি তুলতে পোজ দলিনে। তাকে উৎফুল্ল মনে হচ্ছ!ে আর আমরা তো প্রথম থকেইে উদ্বলেতি!

র্আমনেয়িার বাংলাদশে এসে আমরা ভবেছেলিাম, নতুন বাংলাদশেরে খোঁজ র্সবপ্রথম আমরাই দচ্ছি।ি কন্তিু পরর্বতীতে ভুল ভাঙল। বাংলাদশেে একসময় র্জামান একটি উন্নয়ন সংস্থার হয়ে কাজ করতে আসা র্কাসতনে ভনেডারভল্ট র্আমনেয়িার বাংলাদশেরে কথা জানয়িছেলিনে প্রথম। ভনেডারভল্ট র্কমসূত্রে র্আমনেয়িার ইয়রেভোনে গয়িে ‘লটিল বাংলাদশে’ এর কথা জানতে পরেে বস্মিতি হয়ছেলিনে। তার উদ্যোগে একজন র্আমনেয়ি সাংবাদকি বাংলাদশে নয়িে একটা লখো তরৈরি প্রয়াস নলিওে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে মাঝপথে ক্ষান্ত দনে’।


বাংলাদশে ঘুরে এসে ২০১৪ সালে ব্রটিশি সাংবাদকি ম্যাক্সমি এডওর্য়াডস বশিাল একটি লখো লখিনে। তার লখোর এক জায়গায় তনিি উল্লখে করনে, “এখময়িাদযনি আর ইয়রেভোনরে মাঝামাঝি পড়ে আছে সপ্তম শতকরে ক্যাথড্রিাল ধ্বংসাবশষে। এরই স্মৃততিে ২০০৩ সালে নর্মিতি বশিাল বৃত্তাকার হলি ট্রনিটিি র্চাচই বাংলাদশেরে প্রধান ল্যান্ডর্মাক”।


২০১৫ সালরে জুলাই মাসে বাংলাদশেে সরকাররে সংস্কৃতমিন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর র্আমনেয়িা ভ্রমণে এসে র্আমনেয়িার বাংলাদশেরে কথা শুনতে পান। তনিি জানতে পারনে, এখানে একটি আনফসিয়িাল–‘বাংলাদশে’ রয়ছে।ে তখন র্আমনেয়িার বাংলাদশে ভ্রমণ করছেলিনে আসাদুজ্জামান নূর।


এই সময় মন্ত্রী বলছেলিনে য,ে তনিি র্আমনেযি়া সফররে আগে র্আমনেযি়া এবং র্আমনেযি়ান সংস্কৃতি সর্ম্পকে খুব কমই জানতনে। তনিি কবেল ঢাকায় আঠারো শতকে র্আমনেযি়ানদরে বসবাসরে বষিয়ে জানতনে। যারা দশেরে শক্ষিাগত ও র্অথনতৈকি ক্ষত্রেে বশিাল বনিযি়োগ করছেনে।


যাহোক, ইয়রেভোনরে জলোটরি নাম ‘বাংলাদশে’ কনে তার কারণ অনুসন্ধানরে চষ্টো করছেি আম।ি তবে ঠকি কী কারণে এই এলাকার নাম সবার মুখে মুখে ‘বাংলাদশে’ তা কউে বলতে পারনেন।ি ‘বাংলাদশে’ নামটি র্আমনেয়ি সরকাররে অফসিয়িাল ওয়বেসাইটওে নইে।


অসর্মথতি এক সূত্র থকেে জনেছে,ি র্আমনেয়িার রাজধানী ইয়রেভোনরে দূরতম এক জলো শহররে নাম ‘বাংলাদশে’। ১৯৭১ সালে পাকস্তিান থকেে বাংলাদশেরে স্বাধীনতা লাভরে মহান সংগ্রাম, দূরত্ব, উষ্ণতা, অনগ্রসর, দরদ্রি, অখ্যাত ও তুলনামূলক নম্নি অঞ্চলটকিে ‘বাংলাদশে’ রাখতে অনুপ্রাণতি করছেলি। আরকেটি সূত্র বলছ,ে ‘কারণ জায়গাটি গরম, অনগ্রসর, অনকে দূর,ে আর এই এলাকার ব্যাপারে কারো তমেন আগ্রহ নইে এবং কউে কছিু জানে না’- সম্ভবত এই কারণে বাংলাদশে। এমন পরচিয় মানহানকির ও অপমানরে ঠকেল।
ইয়রেভোনরে বসেরকারি নামরে ওপর লখো এক নবিন্ধে র্আমনেয়ি প্রত্নতাত্ত্বকি ও নৃবজ্ঞিানী ললিতি মরিযোয়ান (খরষরঃ গরৎুড়ুধহ) ভন্নি এবং যৌক্তকি ব্যাখ্যা দয়িছেনে। তনিি তার নবিন্ধে লখিনে, ‘১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার জন্য মহান এক সংগ্রামে ঝাঁপয়িে পড়ছেলি। এসময় পাকস্তিানরিা বাঙালি জাতরি ওপর চালয়িছেলি নর্মিমতা। এমনই ভয়ংকর দনিগুলোতে বাংলাদশেরে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামরে প্রতি সম্মান ও পাকস্তিানরে তীব্র ঘৃণা থকেে এমন নামকরণ হয়ছেলি। পাকস্তিান র্আমনেয়িার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দয়েন।ি যে কারণে র্আমনেয়িদরে পাকস্তিানদিরে প্রতি ঘৃণা আছ।ে’


স্থানীয় অনকেরে সঙ্গে কথা বলে ললিতি মরিযোয়ানরে নবিন্ধরে যৌক্তকিতা পলোম কছিুটা। ১৯৭১ সালে বাংলাদশেরে মুক্তযিুদ্ধরে সময় নপিীড়তি মানুষরে পক্ষে বঙ্গবন্ধুর বলষ্ঠি নতেৃত্বরে প্রতি সম্মান জানয়িে এই জায়গার নাম বাংলাদশে নামকরণ করা হয়ছেলি বলওে একটি ধারণা প্রচলতি আছ।ে তবে এই বষিয়টি কতোটা নশ্চিতি তা না জানা গলেওে বাংলাদশেরে মহান মুক্তযিুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান জানানো, পাকস্তিানরে প্রতি বদ্বিষে এবং পুরো ইয়রেভোনে তা পরচিতি হওয়ার ব্যাপারটি বাংলাদশেি হসিবেে আমাদরে জন্য র্গবরে। অনকেে ধারণা করছেনে, বাংলাদশেরে স্বাধীনতার সময় র্আমনেয়িা ছলি সোভয়িতে ইউনয়িনরে একটি অংশ। সোভয়িতে ইউনয়িন বাংলাদশেরে স্বাধীনতা সংগ্রামে সরাসরি সহযোগতিা করছেলি। স্বভাবতই র্আমনেয়িাও বাংলাদশেকে সর্মথন করতে পার।ে সে কারণে বাংলাদশেরে স্বাধীনতা যুদ্ধরে প্রতি সম্মান থকেে র্আমনেয়িায় একটি স্থানরে নাম ‘বাংলাদশে’ হসিবেে প্রচলন করতইে পার।ে


তবে ঐতহিাসকি আরকেটি গুরুত্বর্পূণ সূত্ররে কথা এখানে বলতে হব।ে বাংলাদশেরে রাজধানী ঢাকাতইে ১৭৮১ সাল থকেে একটি র্আমনেয়ি গর্জিার অস্তত্বি রয়ছে।ে ঢাকার একটি মহল্লা আরমানটিোলা এ সম্প্রদায়রে কথা মনে করয়িে দয়ে। ঠকি তাই। মূলত র্আমনেয়ি সম্প্রদায়রে আগমন ঘটছেলি বাংলায়। তারা ব্যবসায়-বাণজ্যি সইে সঙ্গে খ্রস্টির্ধম প্রচার করত। ব্যবসায় তারা একচটেয়িা দখল নয়িছেলি। র্আমনেয়িরা ব্রটিশিদরে ঠকিাদারি গ্রহণ করত। অনকেে ব্রটিশিদরে হয়ে মোঘলদরে দরবারে ভাকলি হসিবে কাজ করছেনে। ঢাকা- স্মৃত-িবস্মিৃতরি নগরী (অখণ্ড) বইতে অধ্যাপক মুনতাসরি মামুন লখিছেনে- “ঢাকা শহরে এখনো র্আমনেয়িদরে কথা মনে করয়িে দয়ে র্আমানটিোলার র্জীণ, ম্লান র্আমনেি গর্জিা।


জানা যায়, র্দীঘদনি অবস্থান করার পর একসময় র্আমনেয়িরা নজিদেরে প্রভাব প্রতপিত্তি হারাতে থাকে ঢাকায়। তাদরে ব্যবসা-বাণজ্যি স্থানীয় অনকেরে দখলে চলে যায়। এই সময় অনকে র্আমনেয়ি ঢাকা ছড়েে পুনরায় নজি দশেে পাড়ি জমান।, যারা ইয়রেভোনরে সইে শহরতলরি এলাকা যাকে আমরা ‘বাংলাদশে’ হসিবেে চনিতে পরেছেি সখোনে হয়ত বসবাস করতে শুরু করনে। আর এলাকাটকিে কৃষকিাজ, সবুজ-শ্যামল বৃক্ষ নয়িে আবাদ করতে থাকনে। আর ওই সময় থকেে বলা যায় ইয়রেভোনরে র্বতমান জলো শহর সরকারি ‘মালাতয়িা সবোস্তয়িা’ নামটি মানুষরে মুখে মুখে ‘বাংলাদশে’ নাম হসিবেে পরচিতিি পতেে থাক!ে

Leave a Comment